সুষমা গুপ্তা- बांग्ला अनुवाद –मुरली चौधरी

২ মার্চ ২০২১
বাবা খুব অসুস্থ। আপনাদের সকলের আশীর্বাদ ও প্রার্থনা চাই।
(হাসপাতালে শুয়ে থাকা অসুস্থ বাবার একটি ছবিসহ সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করল।)
৩ মার্চ ২০২১
বাবার অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। শরীর, মন, অর্থ—যতটুকু পারছি, সব দিচ্ছি।
(এইবার নিজের ক্লান্ত ও হতাশ মুখের ছবি দিয়ে সে আবার স্ট্যাটাস দিল।)
৫ মার্চ ২০২১
বাবা আর নেই। আমি সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেও হেরে গেলাম। আমার জগৎ শূন্য হয়ে গেল।
(শ্মশান থেকে বাবার চিতার সামনে কান্নায় ভেজা মুখ নিয়ে তোলা নিজের ছবিসহ নতুন স্ট্যাটাস আপলোড হলো।)
১৬ মার্চ ২০২১
বাবার আত্মার শান্তির জন্য বড় করে পূজা দিলাম, একান্ন জন পুরোহিতকে ভোজ করালাম।
(মালা পরানো বাবার ছবির সামনে বসে খেতে থাকা পুরোহিতদের ও নিজে তাঁদের পরিবেশন করতে থাকা নিজের ছবিসহ এইবারের স্ট্যাটাস আপলোড হল।)
সন্ধ্যার পর সে বসে বসে নিজের প্রোফাইলে আসা অগণিত কমেন্ট পড়ছিল—
সবাই তাকে এক জন অত্যন্ত সংবেদনশীল, কর্তব্যপরায়ণ, আদর্শ পুত্র হিসেবে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছে।
পাশের ঘরে মা কাশতে কাশতে প্রায় ভেঙে পড়ছেন—
ওষুধ শেষ হয়ে গেছে, কবে ছেলে এনে দেবে সেই আশায় এখনো অপেক্ষা করছেন।
খালি বিছানার দিকে তাকিয়ে, যেখানে একদিন তাঁর স্বামী শুয়ে থাকতেন, মায়ের চোখ ভিজে উঠল।
কাঁপা গলায় মা ডাকলেন—
“বাবা, একটু ওষুধ এনে দে না…”
ছেলে মুখ বিকৃত করে রাগে বলল—
“খুব ব্যস্ত আমি! বাবা মারা যাওয়ার পর এত অনুষ্ঠান, এত কাজ সামলাতে হচ্ছে—সেগুলো গুছিয়ে নেই আগে। সময় পেলে এনে দেব।”
বলে আবার ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সে।
পাঁচ মিনিট পর নতুন স্ট্যাটাস আপলোড হলো—
“বাবার পর এখন মায়েরও শরীর খারাপ হচ্ছে। হে ঈশ্বর! দয়া করো। আর কিছু হারানোর শক্তি আমার নেই।”