হিন্দুবাদী নেতা লালা শিবচরণের হত্যার পর ক্রমান্বয়ে হত্যার ফলে সারা শহর ভয়ে কেঁপে উঠেছে। বিষয়টা যখন হিন্দু-মুসলমানের, তখন একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
ওইদিন বিকালে জগন বহুরূপী হনুমান সাজবার জন্য ঘি আর মেঠে (কমলা) সিঁদুর গায়ে যেই লাগাতে যাবে ঠিক তখনই কেউ জোরে জোরে দরজায় ধাক্কা দিল। দরজার খিল খুলতেই একজন যুবক তাকে ধাক্কা দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকে পড়ল।
“আমাকে কোথায় লুকিয়ে দাও……… ওরা আমায় মেরে ফেলবে! ওই এসে পড়ল বলে… তাড়াতাড়ি লুকিয়ে দাও।”
“তুমি মুসলমান?”
“হ্যাঁ”
“তাহলে তো মুস্কিল, তোমাদের খুঁজে খুঁজে মারছে ওরা”
“তাড়াতাড়ি লুকাও, এখনি এসে পরবে” বলে সে কাঁপতে কাঁপতে জগনের পিছনে লুকিয়ে পড়ল।
বহুরূপী জগনের মাথায় একটা বুদ্ধি এল। সে এদিক ওদিক অতো না ভেবে কৌটোতে রাখা ঘি আর সিঁদুর ওই ছেলেটির গায়ে চটপট করে লেপে দিল। গায়ে লাল রঙের জামা, গলায় মালা, হাতে গদা আর লেজ লাগিয়ে ছেলেটিকে পুরোপুরি ‘জয় হনুমানজি’ মনে হচ্ছিল।
‘এবার নিশ্চিন্তে যা, তোকে আর কেউ মারবে না। উল্টে জোর হাত করে তোর পা ছোঁবে।”
ছেলেটি নির্ভয়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তার পাস দিয়ে কিছু বাইক আরোহী যাচ্ছিল।
“আরে! দেখ, এদের ভগবানও রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়।”
“হা-হা-হা-হা”
“কাল আমাদের অনেক লোক মেরেছে, এটাই সুযোগ বদলা নেবার”
“মানে?”
“চল, আজ ভগবানকেই আল্লার ঘরে ঘুরতে পাঠিয়ে দি”
একসাথে বেশ কয়েকটা গুলি চলল। ভগবান আর আল্লার ঘর টেক্কার রক্তে ভরে উঠল।
========================
অনুবাদ – বেবী কারফরমা